“হুমায়ন আহমেদের দৃষ্টিতে, ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠন”

“ সেই মাতাল সময়ে ছাত্রদের রাজনৈতিক বিভাজন ছিল এরকম-

ক) ছাত্র ইউনিয়ন:::: যারা এই দলে ধরেই নেওয়া হতো তাদের মধ্যে মেয়েলিভাব আছে। তারা পড়ুয়া টাইপ। রবীন্দ্রনাথ তাদের গুরুদেব। এরা পাঞ্জাবী পাড়তে পছন্দ করে। গান বাজনা, মঞ্চনাটক জাতীয় অনুষ্টান গুলিতে উপস্থিত থাকে। এদের ভাষা শুদ্ধ। নদীয়া শান্তিপুর স্টাইলে। যে-কোন বিপদআপদে দ্রুত স্থানত্যাগ করতে এরা পারদর্শী। মিছিলের সময় পালানোর সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এরা পেছনেরদিকে থাকে।
এই দলটির আবার দুটি ভাগ। মতিয়া গ্রুপ, মেনন গ্রুপ। এক দলের উপর দিয়ে চীনের বাতাস বয়, আরেক দলের ওপর দিয়ে রাশিয়ার বাতাস বয়।

খ)ছাত্রলীগ:::: পড়াশোনায় মিডিকার এবং বডি বিল্ডাররা এই দলে। এই সময়ে তাদের প্রধান কাজ এনএসএফ-এর গুন্ডাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেদের সামনে তারা খানিকটা হীনমন্যতায় ভোগে। মারদাঙ্গায় এবং হলের ক্যানটিনে খাবার বাকিতে খাওয়ার এরা বিশেষ পারদর্শী।

গ) ইসলামী ছাত্রসংঘ:::: মওদুদীর বই বিলিয়ে ‘দীনের দাওয়াত দেওয়া’ এদের অনেক কাজের একটি। পূর্বপাকিস্থানকে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির হাত থেকে রক্ষা করা, মসজিদ ভিত্তিক সংগঠন করা এদের কাজ। দল হিসাবে এরা বেশ সংঘটিত। কথাবার্তা মার্জিত। অনেকের বেশ ভালো পড়াশোনা আছে।

ঘ) এনএসএফ::::: প্রধান এবং একমাত্র কাজ সরকারি ছাতার নিচে থেকে গুন্ডামি করা। সরকার এদের ওপর খুশি। কারন এদের কারনে অন্য ছাত্র সংগঠন গুলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না।


(Copied by from “মাতাল হাওয়া: হুমায়ুন আহমেদ”)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Order VI Rule 16 CPC: Striking Out Pleadings in Bangladesh (and the Subcontinent)

চট্টগ্রামে খোলা ড্রেন ও খাল: অব্যবস্থাপনার দায়ে ১৫টি প্রাণহানি

দেশে-দেশে গণ-অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী বিপ্লব