রাস্তার ধারে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট মেয়ে, বয়স পাঁচ-ছয়ের বেশি হবে না। উসকে-পাঁকিয়ে থাকা চুল, মুখে জমে থাকা ময়লার ছাপ, আর পরনে একখানা পুরনো ময়লা ফ্রক। দেখলেই বোঝা যায়, জীবনের কণ্টকময় পথ সে এখনো কেবল শুরু করেছে। তবে তার মায়াবী চোখে যেন অদ্ভুত এক মাধুর্য, যা দেখে চোখ ফেরানো মুশকিল। মেয়েটির নজর এখন জুতা পলিশের দিকে। কী এক ভেলকি! তার কাছে এটা যেন এক রাজ্যের জাদু। এক জোড়া পুরনো ময়লা জুতা, আর হাতে ঘষা মাত্রই চকচকে নতুন হয়ে ওঠে। মেয়েটি মনোযোগ দিয়ে দেখছে, মুখটা হা হয়ে গেছে কৌতূহলে। সে এতটাই মগ্ন যে, যেন দেখতে চাইছে—জুতার মসৃণতায় তার নিজের প্রতিচ্ছবি কি দেখা যাচ্ছে? তার নিষ্পাপ কৌতূহল আর মুগ্ধ চাহনিতে আশেপাশের পথচারীরা মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তাদের মনে যেন একটাই প্রশ্ন: জীবনের কঠিন বাস্তবতা কি এতটুকু মায়ার মধ্যে মিশে থাকতে পারে? মেয়েটির অমলিন কৌতূহল আর চাহনি সবাইকে মনে করিয়ে দেয়, জীবনের রুক্ষতা সত্ত্বেও শিশুদের মন আজও জাদুর খোঁজে আছে।