পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শিশুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান নিগ্রহ ও হত্যাকাণ্ড: এক অসুস্থ সমাজের নিঃশব্দ আত্মকথা

  ভূমিকা: রাত যত গভীর হয়, শিশুর কান্না তত স্পষ্ট শোনা যায় রাতের শহরগুলো আজকাল অদ্ভুত নীরব। কোথাও একটা মেয়ে শিশু হয়তো রান্নাঘরের কোণে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের চামড়া পুড়ে গেছে গরম খুন্তির ছ্যাঁকায়। কোথাও একটি কিশোরী বাবার হাত আঁকড়ে বাঁচতে চাইছে। কোথাও কোনো স্কুলছাত্রী অন্ধকার গলিতে পড়ে আছে রক্তাক্ত অবস্থায়। আর কোথাও একজন মা থানায় যেতে ভয় পাচ্ছেন—কারণ সমাজ তার পাশে দাঁড়াবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। এগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন সংবাদ নয়। এগুলো একটি সমাজের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এমন এক ভয়ংকর মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে সহিংসতা আর ব্যতিক্রম নয়; বরং ধীরে ধীরে সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাত্র ১০ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রায় ১৯ হাজার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সংখ্যাগুলো কাগজে লেখা থাকে। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একটি ভাঙা শৈশব, একটি আতঙ্কিত মুখ, একটি থমকে যাওয়া জীবন।   শিশু নির্যাতন: যখন ঘরই হয়ে ওঠে কারাগার একসময় বলা হতো, “ঘরই শিশুর নিরাপদ আশ্রয়।” আজ সেই বাক্যটি উচ্চারণ করতেও ভয় লাগে। সম্প্রতি প্রক...

বিচার বিভাগের মর্যাদা

 বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আজ এক সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই সংকট দৃশ্যমান নয় সবসময়, কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। কারণ বিচার বিভাগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের ভিত্তি, নাগরিকের শেষ আশ্রয়স্থল, এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই সংকটের শিকড়ও একেবারে নতুন নয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, এরশাদের শাসনামলে তৎকালীন যশোর বা বরিশাল সার্কিট বেঞ্চের এক বিচারপতিকে একটি মাজারের অভ্যর্থনা বইয়ে মন্তব্য লেখাকে কেন্দ্র করে অপসারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ বিচার বিভাগের ওপর অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের নজির অতীতেও রয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু বিচারপতিকে অপসারণ বা কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, বিশেষ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস. কে. সিনহাকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। এসব ঘটনায় একটি ধারা স্পষ্ট—সময়ের সাথে সাথে বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগের পদ্ধতি বদলালেও প্র...