আব্দুল কাদের মোল্লা: কসায় কাদের: আব্দুল কাদের মোল্লা কলেজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাকে মিরপুরের "কসাই কাদের" হিসেবে অভিযুক্ত করে বিচার করা হয়েছিল। তার পরিচয়কে মিরপুরের একজন কসাই এবং ঢাকার একজন বাসিন্দা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
আমাদের ডিফেন্স টিম শুরু
থেকেই সম্ভাব্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছিল। আমাদের মূল ডিফেন্স ছিল যে জনাব
আব্দুল কাদের মোল্লা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন
মেধাবী শিক্ষার্থী এবং পুরো মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় ফরিদপুরে অবস্থান করেছিলেন। এই দাবির পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষ্যও ছিল।
তদুপরি, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন এবং এমনকি ট্রেনিংও নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এগুলো
যথেষ্ট ছিল না। বিচার প্রক্রিয়ায় ডিফেন্সকে তথ্য
ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
"কসাই কাদের" কে?
কিন্তু, গদবাধা, ডিফেন্স কেইস
এর বাইরে গিয়ে,
আমি এবং আমার
টিম
বের করতে চেষ্টা করেছিলাম, এই কাদের
মোল্লাটা কে, যাকে
কসাই কাদের বলা হচ্ছে, সে কি আসলে ছিল? নাকি
এটা কোন কাল্পনিক চরিত্র। এটা বের করতে গিয়ে, আমার
দুইজন কাদের মোল্লাকে খুজে বের করি। একজন কসাই ছিল,
যে মিরপুরে ব্যবসা করতো, মূলত কিন্তু ঢাকার বাইরে থাকতো,
কিন্তু তিনি মারা
গিয়েছিলেন। মু্ক্তিযুদ্ধ পরবর্তি তার কোন কার্যক্রম আমরা আর বের করতে
পারি নাই। ফলে,
তার ব্যাপারে আমরা ঐ সময় আর কোন তথ্য বের করা সম্ভব হয় নি।
আর দ্বিতীয় কাদের মোল্লা হলেন, এই আব্দুল কাদের মোল্লা কলেজের প্রতিষ্টাতা। যিনি ব্যবসায়ী, মনে হয় আওয়মীগরনার লোক। কিন্তু ঐ সময় সব কিছুই
আমাদের বিপক্ষে, আমার
ব্যাক্তিগত জীবন বলতেও
কিছু ছিলো না, যার কারনে তার ব্যাপারে আমারা বেশী
দূর এগোতে পারি
নাই, কারন আমার
অনেক সিকিউরিটি ইস্যুর সম্মুখিন হতে হচ্ছিলো। ব্যাপারটা আমাকে একটু
নাড়া দিয়েছিলো।
অপরাধ ট্রাইবনালের অন্যতম মূল বিশষত্ব ছিলো, ডিফেন্সকে তার প্রাপ্য তথ্য ও
অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। সেই প্রেক্ষিতে, আমরা কখনো আমাদের কমপ্লেইন্ট পিটিশনের কপি
পাই না, এমকি আমাদের বিরুদ্ধে (জনাব কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে) তদন্তকারী কর্মকর্তা যে
অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন, তার কোন প্রকার কপি আমাদের দেওয়া হয়ে নাই।
যা হোক, পরবর্তিতে, আমাদের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে
জেরার আগে, চার্জশিট টা কোর্টে বসে, আধা ঘন্টা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেই সময় দেখতে
পেলাম, কেন আমাদের ইনভেষ্টিগেশন টিমকে এতে যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শিকার করতে
হয়েছে এতে সব লাঞ্চনা ও বঞ্চনা।
আজকের এই আব্দুল কাদের মোল্ল কলেজের প্রতিষ্টা, ও এই বিশিষ্ট ব্যাবসায়িকে,
তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের মতো খুজে বের করে ফেলেছিলো, যা তাদের তদন্ত রিপের্টেও উঠে
আসে, কিন্তু, জনাব শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে সংপৃক্ত করার জন্য, উনার ব্যাপারে একটা
বাচ্চা সুলব ব্যখ্যা দাঁড় করিয়ে তাকে আভিযোগে থেকে বাদ দেয় হয়। যা কখনো কোন ভাবে তারা
প্রকাশ করেনি, বা হতে দেয় নি। যার কারনে আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবশ্য জেরা করেছিলাম।
কিন্তু ফাসিঁর মঞ্চতো তৈরী ছিলো।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন